আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য

আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম - বঙ্গ টুইট - Bongo Tweet

আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অপরিসীম। মানুষের জীবনযাপনের সংবিধান হিসেবে আল্লাহ তায়ালা এ মহাগ্রন্থ নাজিল করেছেন। এতে অতীতের জাতিসমূহের বহুবিধ তথ্য এবং পয়গম্বরদের কার্যকলাপ ও কৃতিত্বের নিখুঁত বিবরণ বিদ্যমান। তাই আল-কুরআন হলাে মানুষের সফলতা ও ব্যর্থতার প্রকৃত মানদণ্ড।

আল-কুরআন সঠিক পথের দিশা

আল-কুরআন হলাে সঠিক পথের দিশা। এর পঠন ও অনুসরণ মানুষকে সিরাতুল মুস্তাকিম তথা চিরসত্য, শাশ্বত, সুন্দর পথে পরিচালিত করে। তাই জীবনপথের প্রকৃত নির্দেশনা হিসেবে আল-কুরআন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গ্রন্থ।

আল-কুরআন সব মানুষের জন্য উপদেশ দানকারী

আল-কুরআন কোনাে বিশেষ দেশ, অঞ্চল বা জাতির জন্য নাজিল হয়নি; এটি বিশ্বের সব মানুষের জন্য উপদেশদাতা হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন - "এ গ্রন্থ বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ ছাড়া অন্য কিছু নয় (সুরা আত-তাকভির: ৮৭)

আল-কুরআন অন্যান্য আসমানি কিতাবের সারনির্যাস ও সত্যায়নকারী

আল্লাহ তায়ালা যুগের চাহিদা অনুযায়ী রাসুলগণের ওপর আসমানি কিতাব নাজিল করেছেন। পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবসমূহে যেসব তথ্য ও নির্দেশনা রয়েছে তার নির্যাস আল-কুরআনে সন্নিবেশিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন- "এ কুরআন তাে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে যা আছে তার সমর্থক/সত্যায়নকারী, সবকিছুর বিশদ বিবরণ, পথনির্দেশ এবং মুমিনদের জন্য রহমতস্বরূপ (সুরা ইউসুফ: ১১১)

আল-কুরআন ইমানি চেতনা জাগ্রতকারী গ্রন্থ

কুরআন মাজিদ অতুলনীয় ভাষা-অলংকারে পরিপূর্ণ। এর প্রতিটি আয়াত মুমিনদের মধ্যে ইমানি চেতনা জাগ্রত করে। আল্লাহ বলেন - "আল্লাহ নাজিল করেছেন উত্তম বাণীসম্বলিত কিতাব; যা সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা পুনঃপুন আবৃত্তি করা হয়। এতে যারা তাদের রবকে ভয় করে (কিতাব শােনার পর) তাদের গাত্র কেঁপে ওঠে। অতঃপর তাদের দেহ ও মন প্রশান্ত হয়ে আল্লাহর স্মরণের প্রতি ঝুঁকে পড়ে (সুরা আল-যুমার: ২৩)।

ব্যক্তিজীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য

ব্যক্তি বৃহত্তর মানবসমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এজন্য কুরআন প্রথমেই ব্যক্তিকে কুফর (অবাধ্যতা), শিরক (বহুঈশ্বরবাদ), পৌত্তলিকতা (মূর্তিপূজা) প্রভৃতি অসার বিশ্বাস বর্জন করে তাওহিদ (একত্ববাদ), রিসালাত ও আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস পােষণের আহ্বান জানিয়েছে। কুরআন ব্যক্তিকে সাধারণত সংসারী, ধার্মিক এবং কর্মমুখর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। মুমিনদেরকে সালাতের সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আদেশ দিয়ে কুরআন তাদের কর্মহীন থাকার সব পথ বন্ধ করে দিয়েছে। কুরআনে সংসারত্যাগ করা বা বৈরাগ্য জীবনযাপন করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।

পারিবারিক জীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম 

মাতা-পিতা, সন্তান-সন্ততি, স্বামী, স্ত্রী, ভাই, বােন নিয়ে মুসলিম পরিবার গড়ে ওঠে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, বিশ্বাস, ভালােবাসা, সহানুভূতি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি এবং সর্বাত্মক সহযােগী মনােভাব প্রতিষ্ঠার জন্য কুরআন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কুরআন বিভিন্নভাবে নিকটাত্মীয়দের নানা রকমের হক নির্ধারণ করে দিয়ে তা আদায়ের পথ নির্দেশ করেছে এবং এর মাধ্যমে পারিবারিক অবকাঠামাে, শান্তি ও নিরাপত্তা সংরক্ষণ নিশ্চিত করেছে। এখানে পরিবারের প্রতিজন সদস্যকে অন্যের ওপর দায়িত্বশীল বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সুস্থ ও সুন্দর পারিবারিক জীবন গঠনের ক্ষেত্রে আল-কুরআনের নির্দেশনা অতুলনীয়।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তােমরা নেক ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযােগিতা করাে, পাপ ও সীমালঙ্গনের কাজে পরস্পরকে সহযােগিতা করাে না (সুরা আল-মায়িদা: ২)

সমাজজীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম

মানুষ সামাজিক জীব। আত্মীয়-অনাত্মীয়, মুসলিম-অমুসলিম, পাড়া-প্রতিবেশী নিয়ে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে তাকে সামাজিক জীবনযাপন করতে হয়। অবিচার, জুলুম, অধিকার আত্মসাৎ, হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ব্যভিচার ও নানারকম খারাপ আচরণ মানুষের সামাজিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তােলে। এ অবস্থা নিরসনে কুরআন ন্যায়বিচার, সদাচার ও প্রয়ােজনীয় দণ্ডবিধানের ঘােষণা দিয়েছে। সহানুভূতি, সদাচার ও ন্যায়নীতির ভিত্তিতে কুরআন মাজিদ মানুষের সামাজিক জীবনকে সমস্যামুক্ত ও শান্তিপূর্ণ করার সামগ্রিক বিধান দিয়েছে। সুরা নিসার ৩৬ নং আয়াতে আত্মীয়স্বজনের সাথে ইহসান (সদাচার) করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রজীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম

শাসকদের উদাসীনতা ও দুঃশাসন, নাগরিকদের অবাধ্যতা এবং দায়িত্বহীনতা এবং শাসক ও শাসিতের মধ্যে সম্পর্কহীনতাই রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রধান সমস্যা। এ সমস্যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত করে। এ সমস্যা নিরসনে শাসকদের জন্যে কুরআনের নির্দেশনা হলাে - "আর গুরুত্বপূর্ণ কাজেকর্মে তাদের (মানুষদের) সাথে পরামর্শ করাে (সুরা আলে ইমরান: ১৫৯)।

অর্থনৈতিক জীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম

সম্পদের অসমবণ্টন, উপার্জন ও ব্যয়ে হারাম পদ্ধতি অনুসরণ, সম্পদ আত্মসাৎ, সুদ, ঘুষ প্রভৃতি হচ্ছে মৌলিক অর্থনৈতিক সমস্যা। কুরআন এ সমস্যা সমাধানে শ্রমনির্ভর ও জাকাতভিত্তিক এবং সুদমুক্ত অর্থব্যবস্থা চালু-করার নির্দেশনা দিয়েছে। অসম অর্থবণ্টন রােধে আল্লাহ তায়ালা জাকাত প্রথার প্রবর্তন করেছেন। এ ব্যবস্থায় ধনীর সম্পদে গরিবের বিধিসম্মত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

কুরআনে এসেছে-
"আর তােমরা সালাত কায়েম করাে ও জাকাত দাও" (সুরা আল-বাকারা: ৪৩)।

অর্থব্যবস্থাকে শােষণমুক্ত রাখতে সুদ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে- "আর আল্লাহ বেচাকেনা হালাল করেছেন আর সুদকে হারাম করেছেন" (সুরা আল-বাকারা: ২৭৫)।

এভাবে আল-কুরআন সব আর্থিক অনাচারকে হারাম ঘােষণা করেছে।

শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক জীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম

নীতি ও আদর্শহীন শিক্ষা এবং অশালীন সংস্কৃতির চর্চা শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রের মূল সমস্যা। তাছাড়া অশিক্ষা ও নিরক্ষরতা মানুষকে কুসংস্কারপূর্ণ অন্ধকার জীবনে ঠেলে দেয়। এ সমস্যা সমাধানে কুরআন সবার জন্য শিক্ষাগ্রহণ ফরজ করেছে এবং সব অশালীন আচরণ নিষিদ্ধ করেছে। আল্লাহ বলেন - "পড়াে তােমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন (সুরা আলাক: ১)

অশােভন সংস্কৃতির চর্চা নিষিদ্ধ করে আল্লাহ বলেছেন - "আপনি বলে দিন, আমার পালনকর্তা কেবল অশ্লীল বিষয়সমূহ হারাম করেছেন - যা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য (সুরা আল-আরাফ: ৩৩)

পার্থিব জীবনে আল-কুরআনের গুরুত্ব ও মাহাত্ম

কুরআনে পার্থিব জীবনকে উপেক্ষা করতে বলা হয়নি। আল্লাহ তায়ালা বলেন - "অতঃপর সালাত সমাপ্ত হলে তােমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়াে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করাে (সুরা আল-জুমুআ: ১০)

মন্তব্য করুন

নবীনতর পূর্বতন